আহ সখের মেট্র রেল।

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে সেদিন একজন জলজ্যান্ত লোক জায়গাতেই মারা গেলেন। তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন ফুটপাত ধরে৷ রাস্তার ওপর দিয়ে সাপের মতো সর্পিলাকার হয়ে চলে যাওয়া মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড এসে পড়ল তার গায়ে। এতোটুকুতেই শেষ হলো তার জীবনের গল্প।

এই ঘটনায় মেট্রোর নির্মাণাধীন ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ জনিত অদক্ষতা সহ অনেক বিষয়েই আমরা কথা বলেছি।

তবে, এই বিষয়টাও তো দিনশেষে ধ্রুব সত্য যে—তার মৃত্যুটা তাকদিরে এভাবেই লেখা ছিল।

সকালবেলা যখন তিনি বের হচ্ছিলেন ঘর থেকে, তিনি কি একবারও ভাবতে পেরেছিলেন যে—তিনি আর কোনোদিন তার প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারবেন না জীবিত?

তাকে যখন বিদায় দিচ্ছিল ঘরের লোকজন, তারা কি কল্পনাতেও ভেবেছিল—এই বিদায় ইহজনমে তাদের শেষ বিদায়?

আমরা আসলে আগাম কিছুই জানি না। আগামিকাল সকালে আমাদের সাথে কী ঘটবে, আগামি সপ্তাহে আমাদের সর্বশেষ অবস্থা কী হবে, আগামি মাসে আমরা কোথায় থাকব, আগামি বছরে আমাদের পরিণতি কী—এসবের কোনোটাই আমাদের জানাশোনার আয়ত্বে থাকে না।

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কতো সুন্দর বলতেন—

‘যখন সকাল হবে সন্ধ্যের অপেক্ষা করো না। যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে, সকালের আশায় থেকো না।’

জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই তো অনিশ্চয়তায় ভরা। নিশ্চিত তো কেবল মৃত্যুটাই। সেই মৃত্যুটা গৌরবের হবে, নাকি হবে অপমানের—সেই ফিকিরটাই হওয়া উচিত জীবনের আসল উদ্দেশ্য।