আল্লাহর কাছে ধন সম্পদ চাইতে পারেন নিঃসংকোচে।
আল্লাহর কাছে স্বচ্ছলতা, ধনসম্পদ আর অর্থকড়ি চাইতে কোনো বারণ নেই। তবে, যখনই তাঁর কাছে ধনসম্পদ আর অর্থকড়ি চাইবেন, একইসাথে ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তিও চেয়ে নিবেন।
ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার অর্থ ধনসম্পদ না চাওয়া নয় বা ধনসম্পদ প্রাপ্তিকে অপছন্দ করাও নয়।
ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি আবু বাকার রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো একটা দরাজ দিলের অধিকারি হওয়া। নিজের সমস্ত ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দেওয়ার পর যখন তাকে জিগ্যেস করা হলো, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ জবাবে তিনি বললেন—‘পরিবারের জন্য আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি।’
ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো আকাশের মতো উন্মুক্ত হৃদয়ের অধিকারি হওয়া।
অঢেল সম্পদের মালিক উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের সম্পদের অধিকাংশটাই ব্যয় করেছিলেন আল্লাহর পথে। মদিনার সবচেয়ে বড় কূপ ‘বীরে রুমা’ তিনি অত্যন্ত উচ্চমূল্যে কিনে মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন৷ মদিনার সেই কূপ আজও বিদ্যমান৷ আজও মদিনার কৃষিকাজের পানি যোগায় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই কূপ!
ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি আবদুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো দিল দরিয়া হওয়া।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর, উম্মাহাতুল মুমিনীনদের সমস্ত ব্যয়ভার আবদুর রহমান ইবন আউফ একা বহনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
আল্লাহর কাছে ধনসম্পদ চাইতে পারেন নিঃসংকোচে। তবে, আবু বাকার, উসমান আর আবদুর রহমান ইবন আউফদের মতো একটা নিখাদ অন্তরের ব্যাপারেও চাইতে ভুলে যাবেন না যেন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম।
Post a Comment